প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

ইদানিং বিকেল হলেই নদীর ধারে হাঁটাহাঁটি করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রাণজুড়ানো- হৃদয়কাড়া পরিবেশ পেয়ে ভাবনার পাখিটা ডানা ঝাঁপটাতে থাকে অসীম আকাশে। আজকাল একটা চিন্তা বড্ড বেশি তাড়া করে ফিরছে।
পথের দু’ধারে সারি সারি বিশাল ধানক্ষেত। এ ধানক্ষেতের প্রতিটি ধান হয়তো একটা সময় গুনে শেষ করে ফেলা যাবে- সম্ভব। কিন্ত আমি, এই আমি এক জীবনে যত পাপ করেছি তা বোধহয় কখনও গুনে শেষ করার নয়। সামনে এগিয়ে যাই। নদীতে মৃদু মৃদু ঢেউগুলো অন্তরে আছড়ে পড়ার আগেই মনে হয়, এই অজস্র ঢেউয়ের চাইতেও বেশি হবে আমার আত্মার প্রতি জুলুম- অবিচার- অনাচার- অত্যাচারের সংখ্যা।
কখনও একটু বৃষ্টি হয়। অবিরাম ধারায় ঝরতে থাকে অঝোর বৃষ্টি। কত ফোঁটা বৃষ্টি ধরণীকে আর্দ্র করে, সে হিসেব কেউ রাখে না। কেউ রাখলেও তা হয়তো হেরে যেত আমার আজেবাজে কথা- কাজের পরিমাণের সাথে। ফিরে এসে জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়াই। চোখ চলে যায় রাতের আকাশের বুকে। আসমানে তারার মেলা বসে। এ মেলায় তারা শুধু দেখাই যায়; ছোঁয়া যায় না, ঘ্রাণ নেয়া যায় না, কেনা যায় না। জানি না কখনও তারা গুনে শেষ করে ফেলার যন্ত্র আবিষ্কৃত হবে কিনা। সংখ্যা যতই হোক পাল্লা দিয়ে পেরে উঠবে না হয়তো আমার বারংবার পদস্খলনের সাথে।
আমার অনেক কাছের বন্ধুরাও প্রায় সময় এ ধরণের অভিযোগ করে থাকে। মনে মনে বলি, কার কাছে কি বলিস রে ভাই?
“আগুনের কথা বন্ধুকে বলি, দু’হাতে আগুন তারও
কার মালা হতে খসে পড়া ফুল রক্তের চেয়েও গাঢ়?”
আচ্ছা বন্ধু, আপনার মনেও কি কখনও আমাদের মতো এসব ভাবনাগুলো উঁকি দেয়? মনটাকে কখনও অস্থির করে তোলে? একটু বিষিয়ে তোলে?
যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয় তাহলে চলুন না খুঁজে বের করার চেষ্টা করি আমাদের এই বিশাল সমস্যার সমাধান। এভাবে আর কতকাল পার করবো আমরা বন্ধু?
ক’দিন আগে আপনাদের সাথে আলাপ হচ্ছিল- আমাদের প্রতি আল্লাহ্র অশেষ অনুগ্রহ নিয়ে।(১) আল্লাহ্ আমাদের কত- শত নিয়ামাতের মধ্যে স্রেফ হাবুডুবু খাওয়াচ্ছেন- আর আমরা? শুকরিয়া- কৃতজ্ঞতা কি আদৌ আদায় করছি? আর করলে কতটুকুই বা আদায় করছি, ভেবে দেখবার সময় চলে এসেছে। ভেবে দেখুন, কী পরিমাণ অবাধ্যতা আর অকৃতজ্ঞতায় ডুবে আছি আমরা। যিনি আমাদের এত ভালোবাসা দিয়ে, এত মায়া দিয়ে লালন- পালন করলেন; প্রতিদানে আমরা কি দিচ্ছি তাঁকে? আরবী ভাষায় শুকরিয়ার বিপরীত শব্দ হোল কুফরী। যদি আমরা কৃতজ্ঞতা আদায় না করি তাহলে আমরা কী করছি? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন- কুফরী। কুফরী কি খুব ছোটখাট অপরাধ বন্ধু? মোটেই না; অনেক অনেক বড় পাপ।
আমাদের পাপের লিস্টে কি শুধু এক অকৃতজ্ঞতাই রয়েছে? আর কিচ্ছুটি নেই? চোখটা একটু বন্ধ করুন- একটা মিনিট সময় নিয়ে একটু ভাবুন, বন্ধু। জীবনের পাপগুলো একটু স্মরণ করুন।
………
………
………
কি ভেবেছেন? দেখুন তো, এই লিস্টের সাথে মিলে যায় কিনা?
আল্লাহ্র সাথে শিরক করা
ফরজ নামাজ আদায় না করা
কোন কারণ ছাড়াই রমজানের রোজা না রাখা
মাতাপিতার অবাধ্য হওয়া
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা
অবৈধ যৌনাচার করা
সুদ খাওয়া ও দেয়া
মিথ্যা বলা
মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া
গর্ব, দাম্ভিকতা ও অহংকার করা
চুরি করা
জুলুম, অত্যাচার ও অন্যায়মূলক আক্রমন করা
হারাম খাওয়া
প্রস্রাব থেকে ভালভাবে পবিত্রতা অর্জন না করা
কোন মুসলিমকে গাল মন্দ করে কষ্ট দেয়া
আল্লাহ্র ধার্মিক ও সৎ বান্দার সাথে শত্রুতা পোষণ করা
হিংসা বিদ্বেষ, শত্রুতা, দালালি ও কারও পেছনে লাগা
কারও সাথে অহেতুক ঝগড়া ফাসাদ করা
জুম’আ ও জামাতে সালাত আদায় না করা
কাউকে ধোঁকা দেয়া বা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা
কাউকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা
কোন বিপদ আসলে আল্লাহ্র উপর অসন্তুষ্ট হওয়া
অমূলক কারণে কোন সৎকর্মশীল ব্যক্তিকে রাগান্বিত করা
আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন এমন কথা বলা
নিকট আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই এরকম পুরুষ ও মহিলা নির্জনে অবস্থান করা
বিনা ওজরে ওয়াক্ত পার করে নামাজ আদায় করা
কাউকে খারাপ কোন নামে ডাকা
নামাজ আদায়কারির সামনে দিয়ে চলা
গুনাহ করে তা অন্যের কাছে বলে বেড়ানো
আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হওয়া
অনেকগুলোই মিলে যায়, তাই না বন্ধু? এর সবগুলোই খুব বড় বড় পাপ- কাবিরাহ গুনাহ। মনটা খুব খারাপ হয়েছে? এত এত পাপের বহর দেখে ভবিষ্যতের পরিণতি নিয়ে খুব শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন? ঘোর অমানিশার অন্ধকারে নিজেকে খুব অসহায় লাগছে? আমাদের এত পাপ নিয়ে আল্লাহ্র সামনে কোন মুখে দাঁড়াবো? কি জবাব দেব সেদিন?
ইদানিং বিকেল হলেই নদীর ধারে হাঁটাহাঁটি করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রাণজুড়ানো- হৃদয়কাড়া পরিবেশ পেয়ে ভাবনার পাখিটা ডানা ঝাঁপটাতে থাকে অসীম আকাশে। আজকাল একটা চিন্তা বড্ড বেশি তাড়া করে ফিরছে।
পথের দু’ধারে সারি সারি বিশাল ধানক্ষেত। এ ধানক্ষেতের প্রতিটি ধান হয়তো একটা সময় গুনে শেষ করে ফেলা যাবে- সম্ভব। কিন্ত আমি, এই আমি এক জীবনে যত পাপ করেছি তা বোধহয় কখনও গুনে শেষ করার নয়। সামনে এগিয়ে যাই। নদীতে মৃদু মৃদু ঢেউগুলো অন্তরে আছড়ে পড়ার আগেই মনে হয়, এই অজস্র ঢেউয়ের চাইতেও বেশি হবে আমার আত্মার প্রতি জুলুম- অবিচার- অনাচার- অত্যাচারের সংখ্যা।
কখনও একটু বৃষ্টি হয়। অবিরাম ধারায় ঝরতে থাকে অঝোর বৃষ্টি। কত ফোঁটা বৃষ্টি ধরণীকে আর্দ্র করে, সে হিসেব কেউ রাখে না। কেউ রাখলেও তা হয়তো হেরে যেত আমার আজেবাজে কথা- কাজের পরিমাণের সাথে। ফিরে এসে জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়াই। চোখ চলে যায় রাতের আকাশের বুকে। আসমানে তারার মেলা বসে। এ মেলায় তারা শুধু দেখাই যায়; ছোঁয়া যায় না, ঘ্রাণ নেয়া যায় না, কেনা যায় না। জানি না কখনও তারা গুনে শেষ করে ফেলার যন্ত্র আবিষ্কৃত হবে কিনা। সংখ্যা যতই হোক পাল্লা দিয়ে পেরে উঠবে না হয়তো আমার বারংবার পদস্খলনের সাথে।
আমার অনেক কাছের বন্ধুরাও প্রায় সময় এ ধরণের অভিযোগ করে থাকে। মনে মনে বলি, কার কাছে কি বলিস রে ভাই?
“আগুনের কথা বন্ধুকে বলি, দু’হাতে আগুন তারও
কার মালা হতে খসে পড়া ফুল রক্তের চেয়েও গাঢ়?”
আচ্ছা বন্ধু, আপনার মনেও কি কখনও আমাদের মতো এসব ভাবনাগুলো উঁকি দেয়? মনটাকে কখনও অস্থির করে তোলে? একটু বিষিয়ে তোলে?
যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয় তাহলে চলুন না খুঁজে বের করার চেষ্টা করি আমাদের এই বিশাল সমস্যার সমাধান। এভাবে আর কতকাল পার করবো আমরা বন্ধু?
ক’দিন আগে আপনাদের সাথে আলাপ হচ্ছিল- আমাদের প্রতি আল্লাহ্র অশেষ অনুগ্রহ নিয়ে।(১) আল্লাহ্ আমাদের কত- শত নিয়ামাতের মধ্যে স্রেফ হাবুডুবু খাওয়াচ্ছেন- আর আমরা? শুকরিয়া- কৃতজ্ঞতা কি আদৌ আদায় করছি? আর করলে কতটুকুই বা আদায় করছি, ভেবে দেখবার সময় চলে এসেছে। ভেবে দেখুন, কী পরিমাণ অবাধ্যতা আর অকৃতজ্ঞতায় ডুবে আছি আমরা। যিনি আমাদের এত ভালোবাসা দিয়ে, এত মায়া দিয়ে লালন- পালন করলেন; প্রতিদানে আমরা কি দিচ্ছি তাঁকে? আরবী ভাষায় শুকরিয়ার বিপরীত শব্দ হোল কুফরী। যদি আমরা কৃতজ্ঞতা আদায় না করি তাহলে আমরা কী করছি? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন- কুফরী। কুফরী কি খুব ছোটখাট অপরাধ বন্ধু? মোটেই না; অনেক অনেক বড় পাপ।
আমাদের পাপের লিস্টে কি শুধু এক অকৃতজ্ঞতাই রয়েছে? আর কিচ্ছুটি নেই? চোখটা একটু বন্ধ করুন- একটা মিনিট সময় নিয়ে একটু ভাবুন, বন্ধু। জীবনের পাপগুলো একটু স্মরণ করুন।
………
………
………
কি ভেবেছেন? দেখুন তো, এই লিস্টের সাথে মিলে যায় কিনা?
আল্লাহ্র সাথে শিরক করা
ফরজ নামাজ আদায় না করা
কোন কারণ ছাড়াই রমজানের রোজা না রাখা
মাতাপিতার অবাধ্য হওয়া
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা
অবৈধ যৌনাচার করা
সুদ খাওয়া ও দেয়া
মিথ্যা বলা
মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া
গর্ব, দাম্ভিকতা ও অহংকার করা
চুরি করা
জুলুম, অত্যাচার ও অন্যায়মূলক আক্রমন করা
হারাম খাওয়া
প্রস্রাব থেকে ভালভাবে পবিত্রতা অর্জন না করা
কোন মুসলিমকে গাল মন্দ করে কষ্ট দেয়া
আল্লাহ্র ধার্মিক ও সৎ বান্দার সাথে শত্রুতা পোষণ করা
হিংসা বিদ্বেষ, শত্রুতা, দালালি ও কারও পেছনে লাগা
কারও সাথে অহেতুক ঝগড়া ফাসাদ করা
জুম’আ ও জামাতে সালাত আদায় না করা
কাউকে ধোঁকা দেয়া বা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা
কাউকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা
কোন বিপদ আসলে আল্লাহ্র উপর অসন্তুষ্ট হওয়া
অমূলক কারণে কোন সৎকর্মশীল ব্যক্তিকে রাগান্বিত করা
আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন এমন কথা বলা
নিকট আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই এরকম পুরুষ ও মহিলা নির্জনে অবস্থান করা
বিনা ওজরে ওয়াক্ত পার করে নামাজ আদায় করা
কাউকে খারাপ কোন নামে ডাকা
নামাজ আদায়কারির সামনে দিয়ে চলা
গুনাহ করে তা অন্যের কাছে বলে বেড়ানো
আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হওয়া
অনেকগুলোই মিলে যায়, তাই না বন্ধু? এর সবগুলোই খুব বড় বড় পাপ- কাবিরাহ গুনাহ। মনটা খুব খারাপ হয়েছে? এত এত পাপের বহর দেখে ভবিষ্যতের পরিণতি নিয়ে খুব শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন? ঘোর অমানিশার অন্ধকারে নিজেকে খুব অসহায় লাগছে? আমাদের এত পাপ নিয়ে আল্লাহ্র সামনে কোন মুখে দাঁড়াবো? কি জবাব দেব সেদিন?
0 comments:
Post a Comment