প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
অন্যায় থেকে বাঁচার জন্য প্রেক্ষাপট অনুসারে ইসলামে দুটো পথ রয়েছে— ১) অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিহাদ করা, অথবা ২) অন্যায় থেকে সরে যাওয়া। যখন মুসলিমরা কোনো দেশে বা এলাকায় সংখ্যালঘু বা প্রতিপক্ষের তুলনায় এতটাই দুর্বল যে, কোনো ধরনের সশস্ত্র প্রতিরোধ করতে গেলে প্রতিপক্ষের আক্রমণে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছু অর্জন হবে না, তখন তাদের হিজরত করে চলে যাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো উপায়। এভাবে অনর্থক রক্তপাত হবে না, মুসলিমরা বেঁচে থেকে আল্লাহর ইবাদত করতে পারবে, অন্য জায়গায় গিয়ে ইসলামের প্রচারও করতে পারবে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ইসলামের ইতিহাসে প্রথম হিজরত, যেখানে রাসুল ﷺ একদল মুসলিমকে মুশরিকদের অত্যাচার থেকে বাঁচাতে মক্কা থেকে আবিসিনিয়ায় হিজরত করে চলে যেতে বলেন। এধরনের হিজরতে কোনো অপমান নেই, এটি কোনো কাপুরুষের মতো কাজও নয়, বরং আল্লাহর কাছে এটি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য একটি কাজ—
যারা বিশ্বাস করেছে এবং যারা অন্যায় থেকে বাঁচতে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে গেছে এবং আল্লাহর পথে চলতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে, কোনো সন্দেহ নেই, ওরা অবশ্যই আল্লাহর দয়া পাওয়ার আশা করতে পারে। আল্লাহ অবশ্যই অনেক ক্ষমা করেন, তিনি নিরন্তর দয়ালু। [আল-বাক্বারাহ ২১৮]
ইসলামিক পরিভাষায় হিজরত হচ্ছে অত্যাচার, অন্যায় থেকে বাঁচতে এবং অন্য মুসলিমদের সাথে যোগ দিতে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়া। একইসাথে কোনো শিরক দুষ্ট জায়গা থেকে অন্য কোনো কম শিরক দুষ্ট জায়গা, যেখানে পাপ অপেক্ষাকৃত কম হয়, অবস্থা অপেক্ষাকৃত ভালো, মুসলিমদের জান-মালের নিরাপত্তা অপেক্ষাকৃত বেশি, সেখানে চলে যাওয়াও হিজরত।[৩৫৪]
মুসলিমরা কোনো একটি জায়গায় কী ধরনের নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, সেখানে ইসলামের শাসন কতখানি রয়েছে, সেই মুসলিমদের সাথে অমুসলিমদের কী ধরনের চুক্তি রয়েছে ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন মতবাদের অনুসারী আলেমরা পৃথিবীর এলাকাগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করেছেন। হানাফি, মালিকি, শাফিই, হাম্বালি, সালাফি মতবাদের আলেমরা নিচের এই প্রকারভেদগুলো দেখিয়েছেন, যার মোটামুটি একটি বাংলা ধারণা দেওয়া হলো, যদিও এর একটির সংজ্ঞাও এত সরল নয়—
১) দার উল ইসলাম دار الإسلام — মূলত ইসলামী আইন শাসিত স্থান।
২) দার উল কুফর دار الكفر — মূলত কুফর শাসিত স্থান।
৩) দার উল হারব دار الحرب — যে জায়গা বা দেশের সাথে মুসলিমরা যুদ্ধে জড়িত বা যুদ্ধ করতে বাধ্য।
৪) দার উল আমন دار الأمن — মুসলিমদের জান-মালের নিরাপত্তা, সীমিত ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে এমন স্থান।
৫) দার উল ‘আহদ دار العهد — মুসলিমদের সাথে অমুসলিমদের সন্ধি, শান্তি চুক্তি আছে এমন স্থান।
৬) দার মুরাক্কাবাহ دار مركبة — যেই এলাকায় দার উল ইসলাম এবং দার উল হারবের বৈশিষ্ট্য একইসাথে বিদ্যমান।
0 comments:
Post a Comment